রফিক মন্ডল, (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে একটি সরকারি গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণকাজে চরম নিম্নমানের ইট ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের রবির বাড়ি থেকে শুরু করে লতিফের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো (ফ্ল্যাট সলিং) রাস্তা নির্মাণে উন্নত মানের ইট বাদ দিয়ে দুই ও তিন নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি বরাদ্দের আওতায় উক্ত রাস্তাটি নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যেই কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদে ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্টরা কাজ শেষ করেননি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হলেও রাস্তায় ব্যবহৃত উপকরণ ও ইটের গুণগত মান নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনমনে।
গ্রামবাসীর স্পষ্ট দাবি, রাস্তায় যে সমস্ত ইট বিছানো হয়েছে তার কারিগরি ও গুণগত মান অবিলম্বে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, দুই ও তিন নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় বর্ষার বৃষ্টি কিংবা সাধারণ ভারি যানবাহন চলাচলের চাপেই রাস্তাটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়বে। এর ফলে সরকারি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্থের অপচয় হবে এবং এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন স্থানীয় সাধারণ পথচারী ও কৃষকেরা।
বিজ্ঞাপন
নিম্নমানের ইটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান তাঁর মতো করে সাফাই গেয়ে জানান, সচরাচর ‘ইন্টার ইট’ দিয়েই এ জাতীয় রাস্তা নির্মাণ করা হয়ে থাকে। তবে প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী কিংবা ইটের মান পরীক্ষার বিষয়ে তাঁর কোনো স্পষ্ট কারিগরি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের বরাদ্দের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সরকারি তদারকি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ। রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দারা জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ যেন সরেজমিনে গিয়ে নির্মিত রাস্তাটি পরিদর্শন করেন এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেন।ছবি সংগৃহীত।
