কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
জন্মগতভাবে হৃদপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানানো তিন বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় প্রশাসনের অনন্য মানবিক রূপ দেখা গেল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে। চরম অর্থসংকটে চিকিৎসাসেবা বন্ধের মুখে থাকা ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম হুসাইন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের অসুস্থ শিশু মো. ফারহান ইসলামের চিকিৎসা খরচের জন্য তাঁর বাবা-মায়ের হাতে ৯১ হাজার ২০০ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন ইউএনও।
ফারহান কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মো. ইসমাইল হোসেন ও সাথী খাতুন দম্পতির তিন বছরের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর বয়সী অবুঝ ফারহান বেশ কিছুদিন ধরে হৃদপিণ্ডের মারাত্মক ছিদ্রজনিত জটিলতায় ভুগছে। তার চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে ভর্তি করে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সম্পূর্ণ চিকিৎসায় প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। সহায়-সম্বলহীন ফারহানের পরিবার স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন মাধ্যমে কষ্ট করে এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা জমা করলেও বাকি অর্থের অভাবে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় ফারহানের জীবন বাঁচানোর করুণ আকুতি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় ইউএনও মো. শামীম হুসাইনের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা অনুদান হিসেবে পরিবারের হাতে তুলে দেন।
প্রশাসনিক কঠোর দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুর পাশে ইউএনওর এমন হৃদয়স্পর্শী ভূমিকা পুরো কোটচাঁদপুরজুড়ে ব্যাপকমাত্রায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীরা এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে এলে ফারহানের মতো আরও অনেক নিষ্পাপ শিশুর জীবন রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এদিকে অস্ত্রোপচারের জন্য পুরো অর্থের সংস্থান এখনো না হওয়ায় ফারহানের পরিবার প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি, দানশীল ব্যক্তি ও সামাজিক সংস্থাগুলোর কাছে আকুল সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। সহায়তা দিতে সরাসরি বিকাশ ও নগদ মোবাইল নম্বরে (০১৯৫৭-৬৫৪৪৫৭) যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইউএনও শামীম হুসাইনের এই মহানুভবতায় ফারহানের বাবা-মা অশ্রুসজল চোখে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের সন্তান চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক শৈশবে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ছবি সংগৃহীত।
