স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ায় ঋণের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের এক ফল ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
ইন্টারনেটে গুগলে অনুসন্ধান চালিয়ে চেতনানাশক ও বিষাক্ত ওষুধের নাম খুঁজে বের করে তা কোমলপানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে পান করিয়ে শ্বাসরোধে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার প্রায় এক মাস পর তদন্তের জালে আটক হয়েছেন মূল অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন (৩০)। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বগুড়া সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত নাজিম কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘আশা’-র একটি কার্যালয়ে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত তাঁর অপর সহযোগী ও একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. স্বপন (২৮) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
নিহত ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি। তিনি বাবার সঙ্গে বগুড়া স্টেশন সড়কে ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিঝুম সম্প্রতি নিজের মা রঞ্জনা বেগমের নামে এনজিও ‘আশা’ থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা বাবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে বাকি টাকা থেকে বন্ধু স্বপনকে ২ লাখ এবং নাজিমকে ১ লাখ টাকা ধার হিসেবে দেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য তৈরি হয়। এই পাওনা শোধ না করতেই নাজিম ও স্বপন মিলে নিঝুমকে হত্যার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য। গত ৭ আগস্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী নাজিম নিজের মোবাইল ফোনে গুগলে সার্চ করে মানুষ দ্রুত অজ্ঞান করার নানা বিষাক্ত ওষুধের তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর কৌশল অবলম্বন করে নিঝুমকে এনজিও ‘আশা’-র মালগ্রাম কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে অতিরিক্ত কোমলপানীয়র সঙ্গে চেতক ও বিষাক্ত পদার্থ গুলে নিঝুমকে পান করানো হয়। নিঝুম নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুজন মিলে তাঁকে গামছা বা হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর নিঝুমের মৃতদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি নির্জন খাদে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করা হয়। অপকর্ম ধামাচাপা দিতে পরদিনই (৮ আগস্ট) নাজিম ও স্বপন তড়িঘড়ি করে এনজিওর চাকরি থেকে পদত্যাগ করে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এর ৫ দিন পর, গত ১২ আগস্ট সড়ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় একটি পচা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পরবর্তীতে স্বজনেরা নিঝুমের বলে সনাক্ত করেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে নিখোঁজের পূর্বে নাজিম ও স্বপনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে নাজিমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”
হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক স্বপনকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম জোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।

