কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ইতিহাস, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় যে কটি নাম চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলেন এ কে এম সিরাজুল হক—যিনি সবার কাছে পরম শ্রদ্ধার পাত্র ‘সিরু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত। আধুনিক কোটচাঁদপুর গড়ার অন্যতম রূপকার, দূরদর্শী জননেতা এবং পৌরবাসীর পরম ভালোবাসার এই ক্ষণজন্মা মানুষের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে জনসম্পৃক্ততা, প্রগতিশীল উন্নয়নচিন্তা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি কোটচাঁদপুরবাসীর মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। একাধিকবার সফলভাবে নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সমস্ত যুগোপযোগী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, আজও তা কোটচাঁদপুরবাসীর দৈনন্দিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান আজও এলাকাবাসীর স্মৃতিতে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।
প্রয়াত সিরু মিয়া কেবল একজন সফল স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটচাঁদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন হয়েছিল ছাত্রাবস্থাতেই। সুদূর অতীতের ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের সময় তিনি কেসি কলেজ শাখা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছাত্ররাজনীতির পাট চুকিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনার অঙ্গনে প্রবেশ করার পর থেকে প্রতিটি ধাপে তাঁর জনকল্যাণমুখী ভূমিকা কোটচাঁদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করে।
বিজ্ঞাপন
কোটচাঁদপুর পৌরসভার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ। সময়ের পরিক্রমায় জনপদের অবয়ব ও দৃশ্যপট অনেক পরিবর্তন হলেও আধুনিক কোটচাঁদপুর গঠনে তাঁর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। একজন সফল জনপ্রতিনিধির প্রকৃত সার্থকতা যে মানুষের ভালোবাসা ও অমর স্মৃতির মাঝেই বেঁচে থাকার মধ্যে নিহিত, সিরু মিয়ার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্য যেন তারই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
জনপ্রিয় এই নেতার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং কোটচাঁদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান রাব্বুল আলামিন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন—এটাই এখন শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর অন্তরের একমাত্র প্রার্থনা। ছবি সংগৃহীত।
