অশুভ শক্তির বিনাশে মাতৃরূপে দেবী দুর্গার আরাধনা : যশোরে কুমারী ও সন্ধিপূজায় মুখর আশ্রম প্রাঙ্গণ

অশুভ শক্তির বিনাশে মাতৃরূপে দেবী দুর্গার আরাধনা : যশোরে কুমারী ও সন্ধিপূজায় মুখর আশ্রম প্রাঙ্গণ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরে পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আকুল ভক্তি ও প্রথাগত রীতিনীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণ মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা ও বিশেষ সন্ধিপূজাকে কেন্দ্র করে হাজারও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তের বিপুল সমাগম ঘটে। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা ও ধূপের সুবাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আশ্রম চত্বর।

শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মেনে সকাল সাড় ৯টায় শুরু হয় কুমারী পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর মাতৃরূপে পূজিত হয়েছে যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার নিবাসী সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠক দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সোহানী পাঠক। শাস্ত্রমতে তাকে ‘সুভগা’ নামে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে মণ্ডপে বসিয়ে আরাধনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আশ্রমের আয়োজক ও পুরোহিতগণ জানান, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নির্দেশিত পথ অনুসরণে প্রতি বছরই আশ্রমে এই বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। সনাতন বিশ্বাসমতে, বিশুদ্ধ কুমারী কন্যার দেহে পরমেশ্বরী দেবী দুর্গার তেজ ও শুভশক্তি অবস্থান করে। কুমারী পূজার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো বিশ্বসমাজ থেকে অশুভ ও পাপশক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভশক্তির প্রতিষ্ঠা করা।

কুমারী পূজার মূল পর্ব শেষে উপস্থিত সর্বস্তরের ভক্তরা দেবীর চরণে ভক্তিনম্রচিত্তে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় ভক্তেরা নিজ পরিবারের কল্যাণ, সন্তানদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও বিশ্বমানবতার উত্তরোত্তর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা জানান। পরে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের মাঝে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে, পূজা পঞ্জিকা ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে অষ্টমী এবং নবমী তিথির ক্ষণসন্ধিক্ষণে বেলা ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সন্ধিপূজা। পুরাণ মতে, দেবী দুর্গা এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণে ‘চামুণ্ডা’ রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই অসুরকে বিনাশ করেছিলেন। এ উপলক্ষে যশোরে চালকুমড়ো, ইক্ষু ও পাকা কলা দিয়ে আভিচারিক প্রতীকী বলিদান সম্পন্ন করা হয়।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে মূল পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী এবং তন্ত্রধারীর ভূমিকায় ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। পুরো অনুষ্ঠানমালার সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীর বিহিত পূজা ও সন্ধ্যায় বিশেষ সাংস্কৃতিক আচার পালিত হবে। এর পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে বিহিত পূজা, দর্পণ বিসর্জন এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানিয়ে সমাপ্তি ঘটবে চলতি বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে : যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অমিত

যশোরে চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগে বুনোপাড়ার চিহ্নিত সাগর গ্রেপ্তার

ঝুমঝুমপুরে জাহান ফুড ফ্যাক্টরির সামনে সংঘাত : আহত ৩ কর্মচারী

প্রযুক্তি যেন শিক্ষার্থীদের মৌলিক চিন্তাকে দুর্বল না করে-যশোর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল হাফিজুর র...

মহাষ্টমীতে যশোরে হিন্দু মহাজোটের তৎপরতা : ১৫টি পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন

ঝিকরগাছায় প্রতিমা দর্শনে যাওয়ার পথে নসিমন ও ভ্যানের সংঘর্ষে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চাঁচড়া রায়পাড়ায় মাদক ধরতে গিয়ে হামলার শিকার কোতোয়ালি পুলিশ !

ঝাউদিয়ার অস্ত্রধারী কাদেরের ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

বেনাপোল সীমান্তে পৌনে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *