রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অপকর্ম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা বলুহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় কোটচাঁদপুর পৌরসভার নিজ বাড়ি থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কোটচাঁদপুর মডেল থানা-পুলিশ।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাস দমন আইনের একটি গুরুতর মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বলুহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালে আব্দুল মতিন ছিলেন এক দুর্ধর্ষ ও বেপরোয়া চরিত্র। দলীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিরোধী দলের (বিএনপি ও জামায়াত) নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, তাঁর হাত থেকে রেহাই পায়নি সাধারণ মানুষও। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার জোর দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমিজমা জবরদখল, অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি। তাঁর কথামতো না চললে পুলিশি নির্যাতন ও এলাকায় উঠতে না দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন এই দুর্ধর্ষ নেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর দলেরই এক কর্মীর অভিযোগ, নির্বাচনকালে প্রতিপক্ষের পক্ষে ভোট চাওয়ার অপরাধে পুলিশ দিয়ে তাকে আটক করিয়ে থানায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
এদিকে সম্প্রতি কোটচাঁদপুর শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়। এলাকার জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
