উপশহরের সারথী মোড়ে মাদক ও ত্রাসের রাজত্ব : নেপথ্যে ‘কেটলি রানা’ ও ‘ময়লা কাশেম’ সিন্ডিকেট

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর উপশহরের সারথী মোড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু হয়েছে। এই অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কেটলি রানা’ ও ‘ময়লা কাশেম’। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরাধ জগতের খতিয়ান:

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের মাদক সিন্ডিকেটের পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছে খোকনের ছেলে কেটলি রানা। একসময় উপশহর বাজারে তার বাবার চায়ের দোকান থাকলেও বর্তমানে সে ভাড়া বাড়িতে থেকে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে গাঁজা ব্যবসায়ী রকির ভাই সনি, যুবলীগ নেতা চিমার ভাগ্নে কালো রাসেল, এ ব্লকের আনুর ছেলে তাসিন, কসাই বাদশার ছেলে হৃদয় এবং কালিতলার তাসিন ও বাদশা। তারা সারথী মিল, টাওয়ারের মোড় ও সিমতলা গলিতে প্রকাশ্যেই মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

মাদকের রুট ও কিশোর গ্যাং:

সূত্র জানায়,কেটলি রানা বর্তমানে এই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মূল নিয়ন্ত্রক। এবং  মিলেমিশে রানা ও কাশেম এই মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। সূত্র আরো জানায়,মাদকের এই সিন্ডিকেটে ময়লা কাশেমের ভাই সজল কাজীপাড়া বটতলা থেকে গাঁজা ইয়াবার চালান সারথী মোড়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে।পরবর্তীতে এসব মাদক এলাকার চিহ্নিত  খুচরা বিক্রেতার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে হাত বাড়ালেই মাদক মেলায় স্কুলপড়ুয়া ছাত্ররা আশঙ্কাজনক হারে এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে এবং মাদকের টাকা জোগাতে লিপ্ত হচ্ছে নানা অপরাধে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি:

কেটলি রানা অত্যন্ত দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। সম্প্রতি সে উপশহরের মহব্বত নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে। এছাড়া উপশহর বাজারের একটি মেয়েলী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইল নামে এক চা দোকানদারের কাছে চাঁদা দাবি করে সে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পেরে ইসমাইল তাঁর ব্যবসা ছেড়ে হাশিমপুরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। । মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং রানার হাতে ইয়াবা সাপ্লাইয়ের ডিজিটাল প্রমাণ (স্ক্রিনশট) এই প্রতিবেদকের হস্তগত হয়েছে। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন ।

আতঙ্কে এলাকাবাসী:

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এরা সব সময় অবৈধ অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। উপশহর পুকুরপাড় সংলগ্ন এলাকায় দলবল নিয়ে এদের মাদক কেনাবেচা চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক। ছবি সংগৃহীত।

[আগামী পর্বে দেখুন: কেটলি রানার আশ্রয়দাতা ও সাঙ্গপাঙ্গদের সচিত্র প্রতিবেদন।পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে উপশহরের সকল অপকর্মকারীদের সচিত্র প্রতিবেদন আসতেছে]

আরো পড়ুন

শার্শায় পুলিশি অভিযানে ৮ লিটার চোলাই মদসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ঝিকরগাছায় আনসার বাহিনীর তদারকি বৃদ্ধি

যশোরে ট্রাকের ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যশোরে ট্রাকের ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যশোরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শেখহাটিতে প্রবীণদের ফুটবল শৈলী : যুবসমাজকে খেলামুখী ও মাদকমুক্ত রাখার অনন্য প্রয়াস

শংকরপুরে ৮টি ককটেল সাদৃশ্য বোমা উদ্ধার : এসআরবির উপস্থিতিতে পালালো দুষ্কৃতকারীরা

৬০ বছর বয়সে এসে গাছ লাগানোর কর্মসূচির ইতি টানলেন যশোরের পরিবেশকর্মী কোমল

শার্শা থানা পুলিশের অভিযান : ঝিনাইদহ ও যশোরের তিন প্রতারক খাঁচাবন্দী

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *