স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক নারীকে ঘিরে চলা দ্বন্দ্বে সৃষ্ট মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামের এক পেশাদার নাপিতের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শ্যামল শর্মা ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় তিনি একজন নাপিত হিসেবে কাজ করতেন। এই ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা হলেন— রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশীদ (৪৫)।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে আব্দুর রশীদসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামের ওই নারীকে ডোমারের নীলাহাটি এলাকার কলন্দর নদীর পাড়ে অনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তাকে নীলাহাটি শ্মশানঘাট সংলগ্ন কলন্দর নদীর তীরবর্তী ফাঁকা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর মূলত অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তা ঘিরে সৃষ্ট নানা বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে শ্মশানঘাট এলাকা থেকে শ্যামল ও হাফিজ নামের দুই ব্যক্তি ফোন করে তার বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অন্যদের সঙ্গে শ্যামলের তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই বিরোধের জেরে আব্দুর রশীদ, শ্যামল ও হাফিজসহ আরও কয়েকজন মিলে তার ভাইয়ের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে শ্যামল গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
কৃষ্ণ শর্মা আরও জানান, পরবর্তীতে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাদের বাড়িতে সংবাদ পাঠানো হয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামলকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার শরীর ও নাভির নিচের অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নীলফামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় লোকজনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে বাইরে থেকে নারী এনে গভীর রাতে নানা ধরনের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় দিন দিন অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও তৎপরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম সরকার গণমাধ্যমকে জানান, নারীঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে শ্যামল শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছবি সংগৃহীত।
