স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামকে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম উপজেলার নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের স্বাক্ষর করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে শিবচরের নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। তার পিতার নাম আব্দুর রহমান মিয়াজী। ঘটনার দিন স্থানীয়দের হাতে এক নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে আটকা পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে রোববারের সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে সেই ঘটনার ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে এবং রাতারাতি তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও ও অভিযোগের বিষয়ে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সরোয়ার হোসেন মৃধা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বহু মানুষ জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিলখী ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত হওয়ায় তাইজুল ইসলামকে সেখানে জামায়াতের দাওয়াত ও প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। যেহেতু তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই স্থানীয়রা তাকে ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবেই গণ্য করতেন। বিষয়টি দলের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের নারীদের নানা শারীরিক সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসার কথা বলে তাইজুল ইসলাম নিজ বাড়িতে এনে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁক করতেন। এ ধরনের অভিনব উপায়ে নারীদের বাড়িতে ডেকে এনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন যে, ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের বাড়িতে এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হতো। তিনি এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মিন্টু মাতুব্বর জানান, তাইজুল ইসলামের পূর্বপুরুষরা কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও তারা দীর্ঘকাল ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তাইজুল চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনিও এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলাম নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন যে, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার বৈধ স্ত্রী। তবে এই ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, এই পুরো অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অন্য শীর্ষ নেতা এবং আমির ছরোয়ার হোসাইন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সার্বিক এই অভিযোগ, ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকাশিত বক্তব্যগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ছবি সংগৃহীত।

