স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরতলির আদালত সংলগ্ন জজ কোর্ট মোড় এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আদালতপাড়ার কথিত এক আইনজীবী সহকারী এবং পূর্বে নানাবিধ ঘটনার কারণে সমালোচিত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মাদক বহনের অভিযোগে গ্রেফতারের পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউটের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর সরদারপাড়ার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মাসুদ রানা এবং শহরের বেজপাড়া আজিমাবাদ কলোনির সাদ্দাম হোসেন জিতুর স্ত্রী লাবনী আক্তার ইয়াসমিন। গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা নিজেকে আইনজীবীর সহকারী পরিচয়ে পরিচিত করতেন এবং লাবনী আক্তার ইতিপূর্বেও বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেন জানান, গোপন সূত্রে সংবাদ আসে যে জজ কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। এ সময় উপস্থিত জনসমক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মাসুদ রানা ও লাবনী আক্তারের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আটক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে আইনি পেশার ছদ্মবেশ ধারণ করে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ইয়াবা সরবরাহের অভিযোগ ছিল।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও পারিবারিক সম্পত্তি লিখে নেওয়া এবং স্বামীকে মারধরের অভিযোগ সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রের একাধিক ভিডিও প্রতিবেদনে লাবনী আক্তার বেশ চর্চিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সেই সময় বিষয়টি যশোরজুড়ে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পর আবারও পুরো শহরজুড়ে তাঁকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা রজু করা হয়। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ছবি সংগৃহীত।

