স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মুখোমুখি হয়েছেন মো. হযরত আলী (৬৭) নামের এক প্রবাসফেরত প্রবীণ ব্যবসায়ী। দাবিকৃত চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় অস্ত্র নিয়ে হামলা, কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা এবং বসতভিটা দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেও আসামিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আকুল সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হযরত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও দায়েরকৃত মামলার আরজিতে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন এলাকায় হযরত আলীর নিজস্ব জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ চলাকালে একদল চিহ্নিত অস্ত্রধারী হামলা চালায়। হামলাকারীরা পিস্তল, রামদা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে তাণ্ডব চালায় এবং বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা হযরত আলীসহ সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হযরত আলী বাদী হয়ে একাধিক চিহ্নিত ব্যক্তিকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট আমলি আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ এই ব্যবসায়ী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আদালতে মামলা করার পর থেকে অভিযুক্ত ও তাদের সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে পরিবারটিকে এলাকা ছাড়া করা, নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া এবং জমি দখলের হুমকি প্রদান করে চলেছে। পরিবারটি বর্তমানে জীবন ও ধনসম্পদের নিরাপত্তাহীনতায় সার্বক্ষণিক শঙ্কায় দিনাতিপাত করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্যাতিত প্রবাসফেরত ব্যবসায়ী হযরত আলী ও তাঁর স্বজনেরা ঘটনার নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত, অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারটির পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন। ছবি সংগৃহীত।
