স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিতিলা তিয়ামিপুর তাহযীবুল উম্মাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে এখন চরম জীবন ও নিরাপত্তার হুমকিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক, কর্মচারীরা। বছরের পর বছর ধরে কোটি টাকার ওপর অনিয়ম-দুর্নীতি চালালেও সুপারের নিজস্ব পেশিশক্তি, পোষা মাস্তান বাহিনী ও প্রশাসনিক ভীতি প্রদর্শনের কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুপার মো. শহিদুল ইসলাম তাঁর অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিচার কিংবা কোনো প্রকার হিসাব চাওয়া মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি স্থানীয় কিছু চিহ্নিত বখাটে ও সন্ত্রাসী যুবককে মোটা অঙ্কের টাকায় পুষে রেখেছেন। তারা ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা করার ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ চালিয়ে আসছে। সুপারের মদদে পোষা এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন অভিভাবকেরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের নিজ বাড়ি চৌগাছা থানা এলাকাতেই হওয়ায় তিনি স্থানীয় থানা পুলিশের ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ প্রশাসনকে নিজের পকেটে রাখা ও যেকোনো মুহূর্তে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকিতে আতঙ্কিত গোটা এলাকা। এছাড়া সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সাথে নিবিড় সখ্য গড়ে তুলেছেন এই চতুর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক-কর্মচারীরা বিচার চেয়ে কোথাও দাঁড়াতে পারছেন না।
বিজ্ঞাপন
উত্তাপিত এসব অনিয়ম, আর্থিক আত্মসাৎ ও হুমকির বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য গ্রহণের জন্য তাঁর ব্যবহৃত দু’টি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বিপরীত প্রান্ত থেকে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও সাড়া না দেওয়ায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চলে আসা এই দীর্ঘস্থায়ী অপশাসন, চরম নৈরাজ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাটের হাত থেকে তাহযীবুল উম্মাহ দাখিল মাদ্রাসাটিকে রক্ষা করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

