স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আধুনিক ও যুগোপযোগী সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কুরআনুল কারিমের পূর্ণাঙ্গ হিফয কার্যক্রমের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উন্নত নৈতিকতা, মানবিক আদর্শ ও চরিত্রভিত্তিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা। এরই চমৎকার ধারাবাহিকতায় যশোরের শাখায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হিফয সবক সমাপন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’।
তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন যশোর শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা হাবীবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েতি বক্তব্য পেশ করেন যশোর আমিনিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন ঢাকার পরিচালক এম এম রবিউল ইসলাম। উক্ত হিফয সবক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক ও খুলনা জোনাল ইনচার্জ হাফেজ মাওলানা আ খ ম মাসুম বিল্লাহ।
সমাবেশে আমন্ত্রিত সম্মানিত বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন কেবল হিফয করাই শেষ কথা নয়, বরং এর প্রকৃত বাণী, শিক্ষা ও সুমহান সামাজিক মূল্যবোধ নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আধুনিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় ও নৈতিক ভাবধারার এই অনন্য সমন্বয় তরুণ প্রজন্মকে আরও মেধাভিত্তিক, সৎ ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে, যেখানে তানযীমুল উম্মাহর শিক্ষা কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা হাবীবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল তুলে ধরেন, সমাজে একজন হাফেজে কুরআন তৈরি করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সওয়াব ও মর্যাদাপূর্ণ মহৎ কাজ। তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেবল হাফেজ বানানোর মাঝেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তাঁদেরকে দেশপ্রেমিক, চরিত্রবান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আলোকিত মানুষ বানাতে হবে। কুরআনের অমূল্য শিক্ষা যেন শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত হয়, সে লক্ষ্যে অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি এম এম রবিউল ইসলাম বলেন, যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষার সাথে কুরআনিক শিক্ষার সুষম ভারসাম্য বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও মেধা বিকাশে নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে তানযীমুল উম্মাহ। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের সমসাময়িক জ্ঞানার্জনের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্ব বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান আলোচক হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন কুরআন হিফযের অনন্য ফজিলত ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, হিফয সমাপ্ত করার পরও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে কুরআনের সাথে সার্বক্ষণিক আত্মিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হবে। সেই সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরিত্র সুন্দর ও সচ্চরিত্রবান করে গড়ে তোলার প্রতি সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ছবি সংগৃহীত।

