স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পূর্ণ সার্বজনীন, আনন্দঘন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় উদযাপনের লক্ষ্যে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এক বিশেষ ব্রিফিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শার্শা থানা ও বেনাপোল পোর্ট থানায় নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে শার্শা থানা চত্বরে (গ্রাউন্ডে) এই যৌথ ব্রিফিং সভার আয়োজন করা হয়।
পূজা চলাকালে সমগ্র সীমান্ত এলাকা জুড়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিরসন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কঠোরভাবে রোখার লক্ষ্য নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। ব্রিফিং সভায় নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফ হোসেন, শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক এবং বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংকালে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাগণ প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, দর্শনার্থীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যসংগ্রহে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরম পরামর্শ প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় গৃহীত নির্দেশনানুযায়ী, পূজামণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশের টহল দল ও সাদা পোশাকের বিশেষ বাহিনীর ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় থাকবে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করতে থানাগুলোতে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) এবং সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যেহেতু শার্শা ও বেনাপোল একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল, তাই পূজা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পুলিশি টহল বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে পূজা চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো কিংবা উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ব্রিফিং সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের সার্বজনীন সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক। সাধারণ জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া সম্পূর্ণ আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা ও সাধারণ এলাকাবাসীকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে যেকোনো প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
