স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দ্বিতীয় বিয়ে করার পর দুই কোমলমতি শিশুকন্যাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারের রাস্তার পাশে নির্মমভাবে বসিয়ে রেখে সটকে পড়েছেন জন্মদাত্রী মা। ঘটনাটি জানার পর শিশু দুটির চরম অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অমানবিক এই ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা কুমিল্লাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের সঙ্গে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক নূর মোহাম্মদ নাছির আলমের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য সংসারে ইসরাত (৮) ও রোজা মনি (১৮ মাস) নামে দুটি শিশুকন্যা রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক চরম অনৈক্য ও কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তালাকের পর দুই কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জেসমিন আক্তার তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
সম্প্রতি জেসমিন আক্তারের অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হলে সন্তান দুটিকে নিয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েন। এর সূত্র ধরে গত ১১ অক্টোবর দুপুরে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে যান জেসমিন। সেখানে পৌঁছে সাবেক স্বামী নাছির আলমকে মোবাইল ফোনে কল করে জানান যে, সন্তান দুটিকে তিনি বাজারে রেখে যাচ্ছেন এবং তিনি যেন এসে তাদের নিয়ে যান। সে সময় নাছির আলম কাজের প্রয়োজনে কুমিল্লা শহরে অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এর পরপরই জেসমিন আক্তার দুই অবুঝ শিশুকে চিপস কিনে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বাজারের রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও মাকে দেখতে না পেয়ে ১৮ মাসের অবুঝ শিশু রোজা মনি ও তার বড় বোন ইসরাত কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাজারের বিভিন্ন গলিতে ছোটাছুটি শুরু করে। সন্তানদের এভাবে কাঁদতে দেখে দ্রুত স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে শিশুদের চাচি শিরিনা বেগম বাজারে উপস্থিত হয়ে তাদের চিনতে পারেন এবং নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে অটোরিকশাচালক বাবা নাছির আলম এসে দুই মেয়েকে নিজের হেফাজতে গ্রহণ করেন। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের বাবার কাছেই আশ্রিত রয়েছে।
অসহায় বাবা নাছির আলম ক্ষোভ ও কষ্টে জানান, এক নিদারুণ নির্দয়তায় সন্তানদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছেন তাদের মা। তিনি নিজেই চরম অভাব-অনটনের মাঝে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান, তার ওপর দুই দুধের শিশুকে নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে শিশুখাদ্য ও নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, সামাজিক মাধ্যমে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নজরে আসার পরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও আর্থিক মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অসহায় এই দুটি শিশুর সার্বিক বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন নজর রাখছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। ছবি সংগৃহীত।
