স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র চিত্রা মোড়সংলগ্ন বঙ্গবাজারে প্রকাশ্যে ‘ফ্রি স্যাম্পল’ ওষুধের অবৈধ ও রমরমা হাট নিয়ে স্ফুলিঙ্গে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অ্যাকশনে নেমেছে প্রশাসন। গত রবিবার স্ফুলিঙ্গ’-এ “যশোরের বঙ্গবাজারে ‘ফ্রি স্যাম্পল’ ওষুধের রমরমা হাট” শীর্ষক চাঞ্চল্যকর এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পরই মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। বঙ্গবাজারের প্রধান ফটকে অবস্থিত চিহ্নিত তিনটি অসাধু ফার্মেসিতে এ অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ জব্দ করা হয়।
জানা যায়, স্ফুলিঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে আজ দুপুরে বঙ্গবাজারের প্রধান গেটে যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেখানে বহুল আলোচিত হাসান ফার্মেসি, বাঁধন ফার্মেসি এবং নামবিহীন অপর একটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ড্রাগ আইন লঙ্ঘন করে মজুত করা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ চিকিৎসকদের জন্য সংরক্ষিত ‘ফিজিশিয়ান স্যাম্পল’ (বিক্রয়ের জন্য নিষিদ্ধ) উদ্ধার করা হয়। এ সময় ড্রাগ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দোকানগুলোতে রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ স্যাম্পল ওষুধগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ওষুধ কোম্পানিগুলো অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সহায়তায় চিকিৎসকদের বিনামূল্যে যেসব ফিজিশিয়ান স্যাম্পল দিয়ে থাকে, একটি অসাধু চক্র নামমাত্র মূল্যে তা কিনে এনে খোলা বাজারে চড়া দামে রোগীদের কাছে বিক্রি করছিল। এতে একদিকে যেমন সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হচ্ছিল, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। স্ফুলিঙ্গের অনুসন্ধানে উঠে আসে—যশোরে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকার ফ্রি স্যাম্পল ওষুধ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্ফুলিঙ্গ’-এ বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সরাসরি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং অসাধু ফার্মেসি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজেয়াপ্তকৃত বিপুল পরিমাণ স্যাম্পল ওষুধ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জনসমক্ষে ধ্বংস করা হবে। একই সাথে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভবিষ্যতে যশোর জেলার কোথাও ‘নট ফর সেল’ বা ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি কিংবা মজুত করলে দোকান সিলগালাসহ আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
