স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাঘারপাড়ায় রাসায়নিক সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্রের মাধ্যমে বিগত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগীদের ডিলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ উপজেলা চত্বরে ঝোড়ো বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ।
অভিযোগে প্রকাশ, দরাজহাট ইউনিয়নের হাবুল্যা বাজারের ফয়সাল জামানকে সার ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে, যিনি বিগত সরকারের সময় টিসিবির ডিলারশিপ ভোগ করেছিলেন এবং তাঁর পরিবার সরাসরি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সারের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাংক সলভেন্সি সনদের পরিবর্তে কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদর্শন করা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য গোপন করে একই দোকানের দুটি পৃথক ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা এবং দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের দাগ-খতিয়ানে সুস্পষ্ট অসঙ্গতি থাকার পরও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা নাসরিন জাহান কোনো যাচাই-বাছাই না করেই ফাইলটি জেলা সার মনিটরিং কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন।
এসব অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর এক স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে বাঘারপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, উপজেলা সহসভাপতি অনিচুর রহমান, রায়পুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস সালাম সৌদি, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শিকদার, ধলগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি খয়বার হোসেন মোল্লা, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মানিক এবং বিএনপি নেতা হারুনর রশিদসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ভুপালী সরকার জানান, স্মারকলিপির অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা বা তদন্তের আদেশ এলে অবিলম্বে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিক কাগজপত্রে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
