স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মনিরামপুরে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, জমি দখলের অপচেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে গুম ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নারী-পুরুষসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন আহত হয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা কায়ছেদ আলী মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে কায়ছেদ আলী জানান, ১৯৮৫ সালে পৈত্রিক সূত্রে মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া ও ভবানীপুর মৌজার ১৩ শতক জমি নিজ বাবার কাছ থেকে তিনি ক্রয় করেন। উক্ত ক্রয়কৃত জমি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিরোধ দেখা দিলে গত ৪ অক্টোবর সকালে তাঁরই ভাই ইদ্রিস আলীর পক্ষ অবলম্বন করে একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালায়। তাঁর অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এ হামলায় সরাসরি অংশ নেয়।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হামলাকারীরা রামদা, রড ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং জোড়পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চলায়। এ সময় বাধা প্রদান করলে তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, বোন, ভাগ্নি ও ভাগ্নিজামাইসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্যকে মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রক্তক্ষয়ী হামলার পরদিন ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কতিপয় অজ্ঞাত ব্যক্তি পুনরায় তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সব সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলা ও গুম করার হুমকি প্রদান করে। এর পর থেকেই গোটা পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কায়ছেদ আলী উল্লেখ করেন, হামলার দিনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ মামলা নথিবদ্ধ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। এমতাবস্থায় আইনি প্রতিকার পেতে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সজীব হোসেন, আল আমিন, রেহেনা, ফরিদা, আমেনা, রুপা, হেনা ও রাসেলসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অপরাপর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধানের পাশাপাশি নিজেদের ভিটেমাটি ও জীবনরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।ছবি সংগৃহীত।
