স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলা ও বাঘারপাড়ায় পৃথক ছয়টি সহিংস ঘটনায় অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত থেকে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা, পূর্বশত্রুতা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এসব হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
আহত সবাইকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মান্দারতলা এলাকায় সিগারেটের আগুন চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অন্তু (২০) নামের এক যুবক স্থানীয় খোকন (৪০)-এর গলার নিচে ধারালো ছুরি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করেন। পরে সকালে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের আগড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিপন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। প্রতিবাদ করায় তিনি লাঠিসোঁটা ও দা দিয়ে কুপিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্য—আকিজুর (৪৫), তাঁর দুই ছেলে শামিম (২৪) ও হাবিবকে (২৩) রক্তাক্ত জখম করেন।
একই রাতে সাড়ে ১০টার দিকে বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের আজমপুর বাজারে জমিতে জাল পাতা নিয়ে বিরোধের জেরে মন্টু (৩৫) নামের এক ব্যক্তি টর্চলাইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে আব্দুর সামাদ (৪৫)-এর মাথা ফাটিয়ে দেন।
অপরদিকে, রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের ব্যস্ততম মনিহার মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেলে পূর্বশত্রুতার জেরে মিজান (২৬) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে দা দিয়ে মাথায় কোপ মারেন সিরাজ (৫০) ও মুন্সি (৫০) নামের দুই ব্যক্তি।
এর কিছুক্ষণ পর, রাত পৌনে ১০টার দিকে শহরের শংকরপুর মুরগি ফার্মগেট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে কবির (৫৫), কালু (৩০) ও সোহাগ (২৫) নামে তিন ব্যক্তি রিহান (১৮) নামে এক তরুণকে লাঠি ও জিআই পাইপ দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেন।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এসব পৃথক সহিংস হামলার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা ও বাঘারপাড়া থানায় পৃথক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।
