রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোটচাঁদপুর-ভায়া সাফদারপুর সড়ক সংস্কার ও কার্পেটিং কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম পিছু ছাড়ছেই না। ইতিপূর্বে কর্তৃপক্ষের অসাধু সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ অমান্য করে গোপণে আবারও কাজ শুরু করায় সংবাদকর্মীদের খবরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর সড়ক প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এলজিইডির স্থানীয় প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর থেকে সাফদারপুর অভিমুখী প্রায় ২ হাজার ৬২০ মিটার অংশের খানাখন্দ সংস্কার ও নতুন কার্পেটিং কাজের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমন্বিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে প্রকল্পটির সূচনালগ্ন থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আসছিলেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে সড়কটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট এবং ইটভাটার বর্জ্য হিসেবে পরিচিত ‘ভাটা কুড়ানো ডাস্ট’ মেশানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। সে সময় ঝিনাইদহ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ সরেজমিন পরিদর্শন করে ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার অংশে নিম্নমানের খোয়ার উপস্থিতির সত্যতা পান এবং তা অনতিবিলম্বে অপসারণের লিখিত নির্দেশ দিয়ে সাময়িক কাজ বন্ধ ঘোষণা করেন।
তবে স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, পূর্বের অযোগ্য ও বাজে খোয়া অপসারণ না করেই সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের অগোচরে ও লোকচক্ষুর আড়ালে পুনরায় কাজ শুরুর অপচেষ্টা চালায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি পুনরায় প্রত্যক্ষ করে সাংবাদিকরা এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে অবহিত করলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চলমান কাজ পুনরায় বন্ধের নির্দেশ জারি করেন।
এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি বিপুল অর্থের বিনিয়োগে তৈরি হতে যাওয়া সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কাজের শুরুতেই এমন অনিয়ম ও আদেশ অমান্য করা সত্ত্বেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম ও তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন জনতা দাবি জানিয়েছেন, শুধু লোক দেখানো কাজ বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার এই পুরো সড়ক সংস্কার প্রকল্পের ইট, খোয়া ও বিটুমিনের গুণগত মান এবং প্রাক্কলিত কারিগরি নির্দেশিকা সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত টিমের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। একই সাথে গাফিলতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তাঁরা। ছবি সংগৃহীত।

