স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ পুরাতন বাজারের প্রবেশমুখে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কাঁচাবাজার, মাছ ও মুদি দোকানসহ ১৫-২০টি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করে পূর্বের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নাভারণ পুরাতন বাজার এলাকাবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে আবু জাফর বাদী হয়ে যশোর জেলা প্রশাসক এবং ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাজারসংলগ্ন উক্ত খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দরিদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজার, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবার-পরিজন প্রতিপালন করে আসছেন। সম্প্রতি উক্ত স্থানে সরকারিভাবে ‘হাট-চাঁদনী’ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইজারা প্রদান বা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ১৫-২০টি স্থায়ী ক্ষুদ্র দোকান উচ্ছেদের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তাঁদের উপার্জন বন্ধ করে জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারি উদ্যোগে খালি জায়গায় কেবল চারটি ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও স্থানীয় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে সকল দোকান জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল্লাহ নাভারণ পুরাতন বাজারের খাস শ্রেণিভুক্ত প্রায় আড়াই বিঘা জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি জনস্বার্থে সেখানে পরিকল্পিত হাট-চাঁদনী নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতপূর্বক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা বরাদ্দের আশ্বাস প্রদান করেছিলেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি উন্নয়নে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে উন্নয়ন কাজের দোহাই দিয়ে তাঁদের জীবিকা যেন কেড়ে নেওয়া না হয়। হাট-চাঁদনী নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সুবিধাপ্রাপ্ত প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পূর্বের স্থানেই দোকান সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ ও জরুরি নির্দেশনা দাবি করেছেন তারা। ছবি সংগৃহীত।
