স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে মুরাদ হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালককে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে বা স্প্রে করে তাঁর উপার্জনের একমাত্র সম্বল ভ্যান গাড়ি ও সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাতাশকাটি গ্রামে অবস্থিত সাতাশকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রধান সড়কসংলগ্ন একটি পানবরজের বেড়ার কাছ থেকে তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অচেতন ভ্যানচালক মুরাদ হোসেন মূলতঃ খুলনার তেরখাদা উপজেলার হাজীগ্রাম এলাকার জিন্নাত মীরের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন যাবত কেশবপুর উপজেলার বসন্তিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কেশবপুরের মঙ্গলকোট ইউনিয়নের কেদারপুর এলাকা থেকে আখের ট্রিপের ভাড়া নিয়ে ঝিকরগাছার উদ্দেশে রওনা হন মুরাদ হোসেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দিনশেষে বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ঝিকরগাছা থেকে ফেরার পথে যাত্রীবেশী অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা কোনো বিষাক্ত বা চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগ করে তাঁকে সম্পূর্ণ অচেতন করে ফেলে রেখে ভ্যান ও মোবাইল সেটটি লুটে নেয়।
মঙ্গলবার রাতে সাতাশকাটি গ্রামের বাসিন্দারা নির্জন পানবরজের পাশে মুরাদকে দীর্ঘ সময় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার পর তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।
