স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে আদালতের দুটি মামলার বিচারিক নথি সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগে মো. আবু সাঈদ মোল্যা (৫৪) নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জেলা আদালত চত্বরে এই নাটকীয় চুরির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আবু সাঈদ মোল্যা যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের বাসিন্দা আকেম আলীল্যার ছেলে।
ঘটনার পর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় অপরাধমূলক নথি চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্য সম্পাদনা করছিলেন ট্রাইব্যুনালের কর্মচারীরা। ওই সময়ে উক্ত কক্ষে প্রবেশ করে ঘোরাঘুরি করছিলেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আবু সাঈদ মোল্যা। তিনি চলে যাওয়ার কিছু সময় পরই অফিস সহায়ক মামুন মিয়া দেখতে পান যে বিচারিক কাজের জন্য নির্ধারিত টেবিলে রাখা দুটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব হয়ে গেছে।
নথি হারিয়ে যাওয়ার পর আদালত ভবনের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে চৌগাছা সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শেখ আব্দুর বাছেদ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে বার্তা পাঠান যে, নিখোঁজ ফাইল দুটিসহ অভিযুক্ত আবু সাঈদকে তাঁর কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে ট্রাইব্যুনালের কর্মচারীরা দ্রুত সেখানে গিয়ে নথিসহ সাঈদকে উদ্ধার করেন এবং বিচারক সুমাইয়া কাওসারের কক্ষে সোপর্দ করেন। ঘটনা বিস্তারিত শোনার পর বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ হালদার আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামি আবু সাঈদ মোল্যাকে পুলিশি হেফাজতে গ্রহণ করেন।
তবে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে আটক শিক্ষানবিশ আইনজীবী আবু সাঈদ মোল্যা দাবি করেছেন, “আমি কোনো ফাইল চুরি করিনি। ডায়েরির ভেতর ভুলবশত ফাইল দুটি ঢুকে পড়েছিল, যা আমার খেয়াল ছিল না। চৌগাছা সিভিল জজ আদালতের টেবিলে ডায়েরি রাখার পর নথি দুটি দেখতে পেয়ে আমি ওখানেই রেখে দিই। কিন্তু পরবর্তীতে আমাকে ডেকে এনে মিথ্যা অভিযোগে আটকে দেওয়া হয়েছে।”
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত নথি দুটি ট্রাইব্যুনালের জিম্মায় ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নিয়মিত মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।

