স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বগুড়ায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এক সফল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রংপুরগামী যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ২টা থেকে ২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বগুড়া জেলার বগুড়া সদর থানাধীন গোকুল দক্ষিণ পাড়া এলাকাস্থ জনৈক পায়েল মিয়ার বাড়ির সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ ওয়াজেদুল ইসলাম (৩৪)। তিনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ১ নম্বর ওয়ার্ড পীরগঞ্জ পৌরসভার তুলারাম মজিদপুর এলাকার মৃত দুলা মিয়ার ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকের একটি বড় চালান পাচার হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি কৌশলগত নিরাপত্তা অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা হতে রংপুরগামী ‘অরিন ট্রাভেলস’ নামীয় একটি যাত্রীবাহী কোচ (রেজি নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৪৭২) গোকুল এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটির গতি রোধ করা হয়।
বাসের ভেতরে প্রবেশ করে টিকিটবিহীন যাত্রী হিসেবে F-3 নম্বর সিটে বসা ওয়াজেদুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাঁর দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় তাঁর সাথে থাকা স্কচটেপে মোড়ানো একটি খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরের জিপারযুক্ত নীল রঙের ১৯টি পলি ব্যাগ থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৯৫০ পিস কমলা বর্ণের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ডিজিটাল কিচেন স্কেলে মেপে উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১৯৫ গ্রাম পাওয়া গেছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার যোগাযোগে ব্যবহৃত তাঁর কাছ থেকে ১টি সিমসহ Realme c85 মডেলের একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ৯(খ) ও ২৬(১) ধারায় বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। উক্ত মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, বগুড়ার পরিদর্শক জনাব মোঃ আসলাম আলী মন্ডল বাদী হয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চালানটির পেছনে অন্তরালে থেকে আর কে বা কারা কাজ করছে—তাদের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে পুলিশি অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে চলমান এই জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


