কুপিয়ে তরুণীর কবজি বিচ্ছিন্ন,বাঁচাতে এসে রক্তাক্ত বাবা-মা

কুপিয়ে তরুণীর কবজি বিচ্ছিন্ন,বাঁচাতে এসে রক্তাক্ত বাবা-মা

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

মেহেরপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটেছে। লর্ড মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় নিজ বসতঘরে ঢুকে এক তরুণীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। অতর্কিত এই হামলায় তরুণীর ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় আত্মচিৎকার শুনে মেয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর বাবা ও মাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ভয়াবহ এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ডের পর অভিযুক্ত যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানিয় অধিবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে সবাই যখন ঘুমন্ত, তখন মল্লিকপাড়া এলাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে শাওন দেয়াল ডিঙিয়ে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাসভবনে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেলিম হোসেনের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে স্মৃতির ডান হাতটি কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে আলাদা হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কন্যার আকুল আর্তনাদ শুনে পাশের ঘর থেকে পিতা সেলিম হোসেন ও মাতা রেবেকা খাতুন উদ্ধার করতে ছুটে আসলে উন্মত্ত যুবক তাদের ওপরও বেপরোয়া কোপ বসায়। এতে উভয়ই গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে দ্রুত ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকেই উন্নত অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় প্রেরণ করেন।

অভিযুক্ত শাওন ও ভুক্তভোগী স্মৃতির মধ্যে পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হওয়া কোনো তীব্র বিরোধ বা মতানৈক্যের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল কারিগর শাওনকে আইনের আওতায় আনতে শহরের সম্ভাব্য সকল আস্তানা ও রুটগুলোতে কড়া নজরদারি ও গ্রেফতারি অভিযান চালানো হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *